বিভুরঞ্জন সরকার ছিলেন আপাদমস্তক সাংবাদিক


প্রথিতযশা সাংবাদিক, দৈনিক আজকের পত্রিকার জ্যেষ্ঠ সহকারী সম্পাদক বিভুরঞ্জন সরকারকে স্মরণ করলেন তাঁর সহকর্মী ও পরিবারের সদস্যরা। রাজধানীর বনশ্রীতে পত্রিকার কার্যালয়ে গতকাল শনিবার বিকেলে এক শোকসভায় সহকর্মীরা তাঁর কর্মময় জীবনের নানা দিক তুলে ধরেন।
আজকের পত্রিকার উপসম্পাদক জাহীদ রেজা নূরের সঞ্চালনায় সভায় বিভুরঞ্জন সরকারের মেয়ে অদিতি সরকার বলেন, ‘বাবা প্রায়ই আমাকে বলত পরমকে (বিভুরঞ্জনের নাতি) আজকের পত্রিকায় নিয়ে যাব। ইচ্ছে ছিল এখানে আসার। কিন্তু কখনো আসা হয়নি। আজকে এ রকম একটি অনুষ্ঠানে আসতে হবে, এসে তার স্মৃতিচারণা করতে হবে, ভাবতে পারিনি।’
বিভুরঞ্জন সরকারের ভাই কলামিস্ট চিররঞ্জন সরকার বলেন, ‘বিভুদা সৎ পথে থেকে সাংবাদিকতা করার চেষ্টা করেছেন। আমাদের বড় পরিবারের দায়িত্ব সামলাতে গিয়ে তিনি গভীর রাত পর্যন্ত পরিশ্রম করেছেন। বিভুদা যে কত শত, হাজার লেখা লিখেছেন, কত নামে, কতজনের হয়ে, সেটা ভাবাও যায় না। এ রকম একজন প্রতিভা শেষ পর্যন্ত যতটুকু সম্মান পাওয়ার কথা ছিল আমাদের দেশে, সেই সম্মান পাননি।’
আজকের পত্রিকার সাবেক নির্বাহী সম্পাদক সেলিম খান বলেন, ‘আমরা যেন দাদার স্মরণসভায় এসে নিজেদের মধ্যে এই শপথ করি, আমরা এই ধরনের কোনো পন্থা বেছে নেব না। আমি চলে যাব, কিন্তু আমার সঙ্গের যাঁরা এ পৃথিবীতে থেকে যাবেন, তাঁদের কষ্ট কে লাঘব করবে? সেই প্রশ্নটা যেন আমরা নিজেদের করি। এই পেশা ঝুঁকিপূর্ণ তা সবাই আমরা জানি। জেনে-বুঝে অভিমান যেন একটু কমাই। বিভুদা তাঁর ভালো কাজগুলোর মধ্য দিয়েই যেন আমাদের মধ্যে বেঁচে থাকেন।’
আজকের পত্রিকার সাবেক উপদেষ্টা সম্পাদক মামুন আব্দুল্লাহ বলেন, ‘দাদাকে নিয়ে এ রকম অনুষ্ঠান করতে হবে আমরা কেউ-ই তা ভাবিনি। আমরা যখন সাংবাদিকতায় আসি, তখন দাদা ছিলেন তারকা সাংবাদিক।’
আজকের পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক কামরুল হাসান বলেন, ‘বিভুদা কোনো ঘটনার গভীর থেকে বলতে পারতেন। এ রকম সাংবাদিক সব সময় হয় না, যুগে যুগে আসে। তিনি ছিলেন আপাদমস্তক সাংবাদিক।’
অনুষ্ঠানে আরও স্মৃতিচারণা করেন বিভুরঞ্জন সরকারের স্ত্রী শেফালী সরকার, ছেলে ঋত সরকার, দৈনিক আজকের পত্রিকার উপসম্পাদক (বার্তা) সাহিদুল ইসলাম চৌধুরী, ক্রীড়া বিভাগের প্রধান রানা আব্বাস, সহসম্পাদক সৈয়দা সাদিয়া শাহরীন, শিক্ষা বিভাগের প্রধান আব্দুর রাজ্জাক প্রমুখ। শোকসভার শুরুতে বিভুরঞ্জন সরকারের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
ক্রাইম জোন ২৪