৭ বছর পর ভারত-চীন সম্পর্ক উন্নয়নে নতুন আশা


সাত বছর পর চীনের মাটিতে পা রাখলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। আজ শনিবার তিনি সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশনের (এসসিও) বার্ষিক শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে চীনের তিয়ানজিনে পৌঁছান। আগামীকাল রোববার থেকে দুই দিনব্যাপী এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কর্তৃক ভারতের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপের প্রেক্ষাপটে মোদির এই সফরকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রোববার প্রধানমন্ত্রী মোদি চীনা প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করবেন। ২০২০ সালে গালওয়ান সংঘর্ষ ও পূর্ব লাদাখে দীর্ঘ সামরিক উত্তেজনার পর দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার ক্ষেত্রে এই বৈঠককে মূল কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে দেখা হচ্ছে।
চীন সফরের আগে জাপানে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মোদি বলেন, ভারত-চীনের সম্পর্ক আঞ্চলিক শান্তি ও সমৃদ্ধির ওপর ‘ইতিবাচক প্রভাব’ ফেলবে। একটি জাপানি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের আমন্ত্রণে আমি এসসিও সম্মেলনে অংশ নিতে তিয়ানজিনে যাব। গত বছর কাজানে প্রেসিডেন্ট সির সঙ্গে আমার বৈঠকের পর থেকে আমাদের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে স্থিতিশীল এবং ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে।’
মোদি আরও বলেন, ‘পৃথিবীর দুটি বৃহত্তম দেশ ভারত ও চীনের মধ্যে স্থিতিশীল ও বন্ধুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আঞ্চলিক, বৈশ্বিক শান্তি ও সমৃদ্ধিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এটি একটি বহু মেরুকেন্দ্রিক এশিয়া এবং বিশ্বের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।’
সম্প্রতি চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই দিল্লি সফর করেন। এই সফরে দুই দেশের মধ্যে সীমান্ত সমস্যা সমাধান ও সরাসরি ফ্লাইট পুনরায় চালু করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়ান তেল কেনার জন্য প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কর্তৃক ভারতের ওপর আরোপিত ৫০ শতাংশ শুল্কের কারণে নয়াদিল্লি বেইজিং ও মস্কোর আরও কাছাকাছি এসেছে। এর ফলে উভয় দেশই তাদের বাণিজ্য বহুমুখী করার এবং সম্ভাব্য অর্থনৈতিক ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে।
যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপ ভারত-চীনের দীর্ঘদিনের সামরিক উত্তেজনার বরফ গলাতে সাহায্য করেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ট্রাম্পের শুল্ক আরোপের কারণে যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের মধ্যে বিভিন্ন ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতার বিষয়টি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাই ভারত এখন জাতীয় স্বার্থকে সামনে রেখে মস্কো ও বেইজিংয়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলার চেষ্টা করছে।
শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে মোদি রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গেও দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। এই দুই নেতা ট্রাম্পের শুল্কের প্রভাব, ইউক্রেন সংঘাত এবং গাজার পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করবেন।
এ ছাড়া মোদি ও সি চিন পিংয়ের মধ্যে আলোচনায় আরও যেসব বিষয় গুরুত্ব পেতে পারে—
সীমান্ত সমাধান—সীমান্ত প্রশ্নের একটি প্রাথমিক সমাধান খুঁজতে একটি বিশেষজ্ঞ গ্রুপ গঠনের বিষয়ে আলোচনা হতে পারে।
যোগাযোগ—সরাসরি বিমান পরিষেবা এবং ভিসা সহজ করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।
বাণিজ্য—দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য বৃদ্ধি এবং বৈদ্যুতিক গাড়ির মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে সহযোগিতা নিয়েও আলোচনা হবে।
ক্রাইম জোন ২৪