শিরোনাম

রপ্তানিতে নতুন চাপের আশঙ্কা

রপ্তানিতে নতুন চাপের আশঙ্কা

দেশের রপ্তানি পণ্যের প্রায় ৯৩ শতাংশ চট্টগ্রাম বন্দরে পাঠানোর আগে শহরের ১৯টি ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপোতে বিভিন্ন ধাপ সম্পন্ন হয়। এখানেই কনটেইনারে পণ্য ওঠানো-নামানো, ডকুমেন্টেশন ও অন্যান্য কাজ হয়ে থাকে। একইভাবে ৬৫ ধরনের আমদানি পণ্যও বন্দর ছাড়ার পর এসব ডিপোর মাধ্যমে সরবরাহ হয়। এ জন্য ট্রেইলার ও কাভার্ড ভ্যান থেকে লোড-আনলোড, পরিবহন, ডেলিভারি ও যন্ত্রপাতি ব্যবহারের মতো ১৬-১৭ ধরনের সেবার বিপরীতে আলাদা চার্জ নেয় ডিপোগুলো।

এই বাস্তবতার মাঝেই পূর্ব ঘোষণামতো ১ সেপ্টেম্বর থেকে ২০-৫০ শতাংশ বাড়তি কনটেইনার হ্যান্ডলিং চার্জ কার্যকর করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপো অ্যাসোসিয়েশন (বিআইসিডিএ); যা দেশের আমদানি-রপ্তানি খাতে নতুন চাপ তৈরি করবে। এ নিয়ে চরম উদ্বিগ্ন ফ্রেইট ফরোয়ার্ডাররা। তাদের দাবি, এই বাড়তি খরচ শুধু ব্যবসায়ী নয়, গোটা অর্থনীতিকে সংকটে ফেলবে।

শনিবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ ফ্রেইট ফরোয়ার্ডার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বাফা) সদস্যরা এ উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাঁরা বলেন, রপ্তানিকারক ও অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা ছাড়াই হঠাৎ এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বৈশ্বিক মন্দা, রাজনৈতিক অস্থিরতা, বৈদেশিক মুদ্রার ঘাটতি ও ক্রমবর্ধমান বাজার ঝুঁকির সময়ে এমন বাড়তি বোঝা রপ্তানির প্রতিযোগিতা দুর্বল করবে এবং আমদানি পণ্যকে ভোক্তার কাছে আরও ব্যয়বহুল করে তুলবে। তাঁদের মতে, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারাই এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। তাই কনটেইনার হ্যান্ডলিং চার্জ বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে ফ্রেইট ফরোয়ার্ডার্স অ্যাসোসিয়েশন।

নতুন হারের ফলে ১ সেপ্টেম্বর থেকে আইসিডিতে অবস্থানরত ২০ ফুট রপ্তানি কনটেইনারের চার্জ ৬ হাজার ১৮৭ থেকে বেড়ে দাঁড়াচ্ছে ৯ হাজার ৯০০ টাকা। ৪০ ফুট কনটেইনারের চার্জ ৮ হাজার ২৫০ থেকে বাড়িয়ে করা হয়েছে ১৩ হাজার ২০০ টাকা, আর ৪৫ ফুট হাই-কিউব কনটেইনারের চার্জ ১৪ হাজার ৯০০ টাকা। শুধু তাই নয়, অন্য প্রায় সব সেবাতে অতিরিক্ত খরচ যোগ হচ্ছে। এর মধ্যে খালি ২০ ফুট কনটেইনারের গ্রাউন্ড রেন্ট ১১৫ থেকে বেড়ে হবে ১৫০ টাকা, আর ৪০ ফুট কনটেইনারের ক্ষেত্রে তা ২৩০ থেকে বেড়ে দাঁড়াবে ৩০০ টাকা। একইভাবে লিফট-অন/লিফট-অফ সেবায়ও উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি আসছে। আগে যেখানে ২০ ফুট কনটেইনারের জন্য দিতে হতো ৫১২ টাকা, এখন সেই খরচ বেড়ে হবে ৭৫০ টাকা। ৪০ ফুট কনটেইনারের ক্ষেত্রেও বিদ্যমান চার্জ থেকে বাড়িয়ে ৭০০ টাকা করা হয়েছে। এ ছাড়া ডকুমেন্টেশন সেবার ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত বোঝা পড়বে। আগে ২০ ফুট ও ৪০ ফুট উভয় কনটেইনারের জন্য চার্জ ছিল ২৭৬ টাকা, নতুন হার অনুযায়ী তা বেড়ে দাঁড়াচ্ছে ৪৫০ টাকা।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সদস্য আবরারুল আলম বলেন, ‘এটি শুধু একটি ব্যবসায়িক সিদ্ধান্ত নয়, বরং রপ্তানি অর্থনীতির জন্য বড় ধাক্কা। ক্রেতারা বিকল্প বাজারে চলে যেতে পারে, যা বৈদেশিক আয় কমিয়ে দেবে। এতে জাতীয় অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।’

অন্য সদস্য আনোয়ার হোসেন মনে করেন, চার্জ বৃদ্ধির পরিবর্তে সেবা উন্নয়ন, আধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার ও দক্ষ ব্যবস্থাপনা বাড়ানোই সমাধান। আদনান ইকবাল যোগ করেন, ‘খরচ বাড়ানো নয়, বরং স্বচ্ছতা ও দক্ষতার মাধ্যমে ডিপো পরিচালনা জরুরি।’

ফরোয়ার্ডাররা আরও দাবি করেছেন, কার্গো আনলোডের সময় কমানো, পর্যাপ্ত শ্রমিক নিয়োগ, দক্ষ জনবল গড়ে তোলা এবং আধুনিক ইকুইপমেন্ট ব্যবহারের মাধ্যমে খরচ না বাড়িয়েও সেবার মান বাড়ানো সম্ভব। তাদের সঙ্গে একাত্ম প্রকাশ করে বিজিএমইএ ইতিমধ্যে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের কাছে বাড়তি চার্জ প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে।


ক্রাইম জোন ২৪

আরও দেখান

সম্পর্কিত খবর

Back to top button