নানা সংকটে ধুঁকছে বিএম কলেজের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি


বরিশালের ঐতিহ্যবাহী ব্রজমোহন (বিএম) কলেজ কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি ধুঁকছে নানা সংকটে। স্যাঁতসেঁতে কক্ষ। নেই বসার পর্যাপ্ত জায়গা। আলোকস্বল্পতাও প্রকট। সকাল ৯টায় খোলা হলেও সামান্য দেরিতে গেলে বসার জায়গা পান না শিক্ষার্থীরা। এসব সমস্যার সমাধানসহ শনিবার সাপ্তাহিক ছুটির দিনেও লাইব্রেরি খোলা রাখার আহ্বান জানিয়ে তাঁরা অধ্যক্ষকে স্মারকলিপি দিয়েছেন। তবে সাড়া নেই কর্তৃপক্ষের।
বিএম কলেজের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরিতে গত বৃহস্পতিবার দুপুরের দিকে গিয়ে দেখা যায় সুনসান নীরবতা। তবে শতাধিক শিক্ষার্থী টেবিলে বসে পড়ছেন। জায়গা না পেয়ে বাইরে দাঁড়িয়ে আছেন অনেকে। কক্ষটা স্যাঁতসেঁতে। বসার জায়গা ও আলোকস্বল্পতা আছে। শিক্ষার্থীদের চাহিদামতো বই বরাদ্দের দায়িত্বে আছেন মাত্র একজন কর্মচারী। আর লাইব্রেরির দায়িত্বে আছেন কলেজের ক্রীড়াশিক্ষক মো. আফিল উদ্দিন।
আফিল উদ্দিন আজকের পত্রিকাকে বলেন, কয়েক বছর ধরে লাইব্রেরির দায়িত্বে তিনি। এখানে লাইব্রেরিয়ান, সহকারী লাইব্রেরিয়ান, ক্যাটালগার এবং বসার জায়গা, চেয়ার-টেবিল নেই। এখানে প্রায় ৭০ হাজার বই আছে। বই রাখার জায়গা নেই। পুরোনো বই বাতিল কিংবা সংস্কার করা জরুরি। কেননা অ্যাটলাসের মতো দুর্লভ গবেষণাধর্মী বই তাঁদের সংগ্রহে আছে।
আফিল উদ্দিন বলেন, ‘রিডিং রুমে দৈনিক ৫ শতাধিক শিক্ষার্থী পড়তে আসেন। এটি খোলা থাকে সকাল ৯টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত। খোলার ১০ মিনিট পরে কেউ আসলে জায়গা পান না। মাত্র ১০০ সিট আছে। পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা নেই। লাইব্রেরিটি আধুনিকায়ন করতে হলে ক্যাটালগ সিস্টেমে করতে হবে।’
জানা গেছে, সম্প্রতি লাইব্রেরি ভবনের নাম পরিবর্তন করে রাখা হয়েছে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ তাহীদুল ইসলামের নামে। মাস দুয়েক আগে লাইব্রেরি কমিটির আহ্বায়কের দায়িত্ব পান অধ্যাপক মো. আবুল কালাম আজাদ। কিন্তু একবারের জন্যও আহ্বায়কসহ অন্য সদস্যরা লাইব্রেরিতে যাননি কিংবা সভা করেননি। এ বিষয়ে জানতে অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদকে ফোন দেওয়া হলে তাঁর মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া গেছে।
কলেজের রসায়ন বিভাগের মাস্টার্সের ছাত্র মো. সাগর হোসেন আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘আমরা লাইব্রেরির জন্য প্রতিবছর ফি দিই, কিন্তু এর উন্নয়নে কোনো বাজেট নেই। ছাত্রছাত্রীরা লাইন দিয়ে লাইব্রেরিতে আসে, কিন্তু বসার জায়গা নেই। লাইব্রেরিয়ানই নেই! পুরোনো বই এখানকার সম্বল। আধুনিকতার ছোঁয়া লাগেনি বহু বছর।’ তিনি আরও বলেন, তাঁরা লাইব্রেরির উন্নয়নে ৫ দফা দাবিতে গত ১৬ জুলাই স্মারকলিপি দিয়েছেন। কিন্তু অধ্যক্ষ তাতে বিরক্ত হয়ে এখন আর তাঁর কার্যালয়ে ঢুকতেই দিতে চান না।
একই কথা জানিয়ে শিক্ষার্থী ফারজানা আক্তার, অনিমেষ রায়, তাসমিম মীম, অনন্যা রহমান, আমিনুল ইসলাম অভিযোগ করেন, সকাল ৯টার একটু পর লাইব্রেরিতে গেলেই তাঁরা বসার জায়গা পান না। বই পড়ার প্রতি শিক্ষার্থীদের
এত আগ্রহ সত্ত্বেও কর্তৃপক্ষের উদ্যোগ নেই। নেই চেয়ার-টেবিল এবং কোনো স্টাফ।
এ ব্যাপারে অধ্যক্ষ ড. শেখ মো. তাজুল ইসলাম আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘ক্রীড়াশিক্ষক দিয়ে লাইব্রেরিটি চলছে না। একজন সহকারী লাইব্রেরিয়ান আনার চেষ্টা করা হচ্ছে। লাইব্রেরির পরিধি বাড়ানোর জন্য পাশের একটি কক্ষ যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। নিয়মিত বই কেনা হচ্ছে। শিক্ষার্থীরা কিছু দাবি জানিয়ে স্মারকলিপি দিয়েছে। কিন্তু শনিবার খোলা রাখতে হলে মন্ত্রণালয়ের অনুমতি লাগবে। আলোর স্বল্পতা দূর করার চেষ্টা চলছে। লাইব্রেরির প্রতি আরও আগ্রহ বাড়াতে শিক্ষার্থীদের উদ্বুদ্ধ করতে হবে।’
তবে লাইব্রেরি ব্যবস্থাপনা কমিটির স্থবিরতা প্রসঙ্গে কিছুই বলতে চাননি তিনি।
ক্রাইম জোন ২৪