শিরোনাম

হলে হলে সব প্যানেলের প্রচার, সক্রিয় স্বতন্ত্ররাও

হলে হলে সব প্যানেলের প্রচার, সক্রিয় স্বতন্ত্ররাও

শুক্রবার ছুটির দিন। একাডেমিক ভবনগুলোয় নেই শিক্ষার্থীদের পদচারণ। তাই এদিন আবাসিক হলগুলোয় প্রচারণায় ব্যস্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী প্রার্থীরা। রাজনৈতিক ছাত্রসংগঠন-সমর্থিত প্যানেলের পাশাপাশি প্রচারে বেশ সক্রিয় স্বতন্ত্র প্রার্থীরাও। গতকাল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হলে গিয়ে প্রার্থীদের এমন তৎপরতা চোখে পড়েছে।

গতকাল বিজয় একাত্তর হল, শহীদুল্লাহ্ হল ও অমর একুশে হলে প্রচারণা চালায় ছাত্রদল-সমর্থিত আবিদ- হামিম-মায়েদ প্যানেল। এ ছাড়া জসীমউদ্‌দীন হল, মল চত্বর, কেন্দ্রীয় লাইব্রেরিসহ বিভিন্ন জায়গায় প্রচারণা করতে দেখা যায় ছাত্র অধিকার পরিষদ-সমর্থিত ডাকসু ফর চেঞ্জের ভিপি প্রার্থী বিন ইয়ামীন মোল্লা এবং স্বতন্ত্র ভিপি প্রার্থী শামীম হোসেনকে।

এদিকে শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হলের মসজিদের নামাজ আদায়ের পরে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় ও প্রচারণা চালান বাগছাস-সমর্থিত বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থী সংসদ প্যানেলের জিএস প্রার্থী আবু বাকের মজুমদার। সূর্য সেন হল, সার্জেন্ট জহুরুল হক হল ও শামসুন নাহার হলে প্রচারণা চালিয়েছে উমামা ফাতেমার নেতৃত্বে স্বতন্ত্র শিক্ষার্থী ঐক্য প্যানেল। এই প্যানেলের জিএস প্রার্থী আল সাদী ভূঁইয়া বলেন, ‘শুক্রবার থাকায় আমরা হলগুলোয় প্রচারণা করেছি। আগামী সোমবার আমাদের ইশতেহার ঘোষণা দিব। ইশতেহারে শিক্ষার্থীদের আত্মমর্যাদা, ক্যাম্পাসে সহাবস্থান ও সম্প্রীতির পরিবেশ নিশ্চিত করা; শিক্ষার্থীদের রাজনৈতিক সচেতনতার পাশাপাশি ক্যারিয়ারমুখী সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি, দক্ষতা অর্জন ও উদ্যোক্তা হতে সহযোগিতা করা আমাদের ইশতেহারে থাকবে।’

গতকাল জুমার নামাজ শেষে বিজয় একাত্তর হলে প্রচারণার সময় ছাত্রদল মনোনীত ভিপি প্রার্থী মো. আবিদুল ইসলাম খান বলেছেন, ‘আমাদের প্রার্থীদের রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করতে ব্যর্থ হয়ে একটা গোষ্ঠী অনলাইনে অপপ্রচার চালাচ্ছে। শিক্ষার্থীরা কোনো অপপ্রচারে কান দেবেন না। যে ঘটনাই ঘটুক না কেন, পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিশ্লেষণ করে তারপর ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। আমরা কোনো অপরাধ করলে শিক্ষার্থীদের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে প্রস্তুত আছি। কিন্তু কোনো মিথ্যা ঘটনা আমাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া যাবে না।’

এ সময় আবিদের সঙ্গে একই প্যানেলের মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন সম্পাদক প্রার্থী আরিফুল ইসলাম, আন্তর্জাতিক সম্পাদক প্রার্থী মেহেদী হাসানসহ অন্য প্রার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। পরে বিজয় একাত্তর হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে তাঁরা প্রচারণা চালান। এ ছাড়া ছাত্রদল-সমর্থিত এজিএস প্রার্থী তানভীর আল হাদী মায়েদ অমর একুশে হলে প্রচারণা চালান।

একই দিনে শহীদুল্লাহ্‌ হলে প্রচারণা শেষে ছাত্রদল মনোনীত জিএস পদপ্রার্থী তানভীর বারী হামিম বলেন, কোনো উপঢৌকন দেওয়া নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন। অথচ একটি ছাত্রসংগঠন আবাসিক হলে বই, কলম ও চকলেট বিতরণ করেছে।

তানভীর বারী হামিম বলেন, ‘বিজ্ঞান শিক্ষার্থীদের বেশির ভাগই থিওরিটিক্যাল পড়া হয়। কিন্তু আমরা দেখছি যে ল্যাবগুলো রয়েছে, এই ল্যাবগুলোয় আধুনিক যন্ত্রপাতি নেই। আধুনিক সুযোগ-সুবিধা নেই। আমরা চাই, শিক্ষার্থী গ্র্যাজুয়েশন (স্নাতক) শেষ করে তারা যেন দক্ষ জনসম্পদে রূপান্তরিত হয়, এই ধরনের কিছু ইনিশিয়েটিভ নেব।’

গতকাল বিকেলে মধুর ক্যানটিনের সামনে সংবাদ সম্মেলন করে নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচারণার ঘোষণা দেন স্বতন্ত্র এজিএস প্রার্থী মহিউদ্দিন রনি। এ সময় তিনি বলেন, ‘আমি ইশতেহার শব্দটা ব্যবহার করতে চাই না। ইশতেহার হচ্ছে প্রেমিক প্রেমিকার কাছে করা সেই প্রতিশ্রুতি, যা মানুষ কখনোই বাস্তবায়ন করে না। আগের ডাকসুতেও অনেক অনেক ইশতেহার আমরা দেখেছি। নির্বাচনের পরে এসে ইশতেহার কতটা পূরণ করতে পেরেছে? নেতাদের নেতাগিরি টিকিয়ে রাখার জন্য এসব আশা-হতাশার বহুমুখী সমীকরণের মিথ্যার প্রতিশ্রুতি দেয়। আমি শিক্ষার্থীদের কাছে কর্মপরিকল্পনা দেব। যত রকম সিদ্ধান্ত আছে, তা আপনাদের সঙ্গে নিয়েই কাজ করব। সবাই শিক্ষার্থী মানে সবাই শিক্ষার্থী। কে কোন রাজনৈতিক দলের, সাধারণ, অসাধারণ—আমার কাছে এসব নেই।’


ক্রাইম জোন ২৪

আরও দেখান

সম্পর্কিত খবর

Back to top button