‘কালো’ বলে খোঁটা দিতেন শাশুড়ি, গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু


ভারতের বেঙ্গালুরুতে নিজ বাড়িতে ২৭ বছর বয়সী এক নারীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে দেখে আত্মহত্যা মনে হলেও শিল্পা নামের ওই নারীর পরিবারের দাবি তাঁকে হত্যা করা হয়েছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, মৃত্যুর সময় শিল্পা গর্ভবতী ছিলেন।
সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রবীণ নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে তিন বছর আগে শিল্পার বিয়ে হয়। তাঁদের একটি সন্তান রয়েছে। বিয়ের সময় শিল্পা ও তাঁর পরিবার জানত প্রবীণ পেশায় একজন প্রকৌশলী। কিন্তু বিয়ের পরপরই তিনি ওই চাকরি ছেড়ে দিয়ে রাস্তায় ফুচকা বিক্রি শুরু করেন।
শিল্পার পরিবারের অভিযোগ—ছয় মাস আগে ওই ফুচকার ব্যবসার জন্য শিল্পার পরিবারের কাছে পাঁচ লাখ রুপি দাবি করেন প্রবীণ। তাৎক্ষণিকভাবে পাঁচ লাখ টাকা না দিতে পারায় শিল্পাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করেছে প্রবীণ ও তাঁর পরিবার। এবারই প্রথম নয়, প্রায়ই অর্থের জন্য শিল্পাকে চাপ দেওয়া হতো বলে জানায় তাঁর পরিবার।
প্রবীণ ও তাঁর পরিবারের এ ধরনের আচরণ দেখে প্রবীণ কখনো প্রকৌশলী ছিল কি না তা নিয়েও সন্দেহ তৈরি হয়েছে শিল্পার পরিবারে সদস্যদের মধ্যে। বিয়ের আগে শিল্পা একটি আইটি ফার্মে চাকরিরত ছিলেন বলে জানায় তাঁর পরিবার।
প্রবীণের পরিবার শিল্পাকে তাঁর গায়ের রঙের জন্য অপমানজনক কথা শোনাত বলেও অভিযোগ উঠছে। শিল্পার স্বজনেরা বলছেন, তাঁর শাশুড়ি তাঁকে প্রায়ই বলতেন, ‘তুমি কালো। আমাদের ছেলে এর চেয়ে অনেক বেশি সুন্দরী মেয়ে পেতে পারত। তুমি ওকে ছেড়ে দাও। আমরা তোমার চেয়ে ভালো বউ খুঁজে আনব।’ শিল্পার পরিবারের দাবি—যদি শিল্পা আত্মহত্যাই করে থাকে, তাহলে তাঁর জন্যও প্রবীণ ও তাঁর পরিবারের এমন অপমানজনক কথাবার্তা এবং নির্যাতনই তার জন্য দায়ী।
শিল্পার চাচা চান্নাবশ্যের অভিযোগ—শিল্পা আত্মহত্যা করেননি তাঁকে হত্যাই করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘শিল্পা আর প্রবীণ তিন বছর ধরে সংসার করছে। তাদের একটা ছেলে আছে। শিল্পা আবারও সন্তানসম্ভবা হয়েছি। তাদের মধ্যে বিভিন্ন বিষয়ে ঝগড়াঝাঁটি ছিল। কিন্তু তা নিয়ে আলাপ-আলোচনা করে আমরা সমাধান করেছিলাম। শিল্পা বাড়ি চলে এসেছিল। আলোচনার মধ্য দিয়ে সমস্যার সমাধানের পর তাকে আমরা আবার শ্বশুরবাড়ি পাঠাই। যদি তারা শিল্পাকে আর গ্রহণ করবেই না, তাহলে তখন কেন ফেরত পাঠাল না?’
তিনি আরও বলেন, ‘গতকাল শহরের বাইরে যাবে বলে বাড়ি থেকে বের হয় প্রবীণ। তারপর বিকেলে আমরা জানতে পারি শিল্পা গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। কিন্তু আমরা গিয়ে তার মরদেহের নিচে কোনো চেয়ার বা এ ধরনের কিছু দেখতে পাইনি। আর শিল্পা এত লম্বা নয় যে সে ফ্যানের কাছে পৌঁছাতে পারবে। প্রবীণই ওকে হত্যা করে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে পালিয়ে গেছে।’
শিল্পার পরিবার জানায়, তারা বাড়ি বিক্রি করে ৪০ লাখ রুপি খরচ করে মেয়েকে বিয়ে দিয়েছিল। এরপর তাদের চিট ফান্ডে থাকা আরও ১০ লাখ রুপিও প্রবীণকে দিতে হয়েছে বলে জানায় তারা।
শিল্পার পরিবারের ভাষ্য—মূলত তাঁর চাকরি দেখেই তারা প্রবীণকে বিশ্বাস করেছিল। কিন্তু বিয়ের পর দেখা গেল তিনি ফুচকা বিক্রি করেন। তাদের অভিযোগ, মিথ্যা বলে বিয়ে করেছেন প্রবীণ।
এ ঘটনায় যৌতুকের জন্য নির্যাতন ও অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা দায়ের হয়েছে। একজন পুলিশ কর্মকর্তা এনডিটিভিকে বলেন, ‘ভুক্তভোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী আমরা যৌতুকের কারণে মৃত্যুর মামলা নথিভুক্ত করেছি। আমরা স্বামী প্রবীণকে জিজ্ঞাসাবাদ করছি এবং অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করার চেষ্টা চলছে।’
ক্রাইম জোন ২৪